জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মোশারফ হত্যা সহ একাধিক মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামি কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী ও তার সহযোগী উজ্জ্বলকে অস্ত্র, গুলি মাদকসহ গ্রেফতারে স্বস্তির পর দিনে বোমা সাদৃশ্য বস্তু পাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ভীতি, আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চৌধুরী আটি গ্রামে বাগানের মধ্যে বোমা সাদৃশ্য দু,টি বস্তু দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হোসেন সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১০ টার দিকে বাগান থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু দুই,টা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বোমার আকৃতিতে কষ্টেপ পেচানো ২ টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এখনো কোন তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে ধারণা করা হচ্ছে ডাকাত ইয়ার আলী গ্রেফতারে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তার সহযোগীরা এই বোমা সাদৃশ্য বস্তু ফেলে রেখেছে বলে অনেকেরই ধারণা।
ডাকাত ইয়ার আলী, বাহার আলী কৃষ্ণনগরে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা র্যাব-৬ এর ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েদ জাহিদ ও কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে
শংকরপুর গ্রামের তাদের সহযোগী আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে ১ টি নাইন এমএম পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২ টি ওয়াকি টকি, ১,শ পিস ইয়াবাসহ ডাকাত ইয়ার আলী ও তার সহযোগী উজ্জলকে আটক করে। আটকের পর দিন খবর আসে কৃষ্ণনগরে চৌধুরী আটি গ্রামের একটি বাগানে কষ্টেপে মোড়ানো ২টি বোমা সাদৃশ্য বস্তুর।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকে। কারণ হিসাবে এলাকাবাসী জানান ডাকাত ইয়ার আলী গ্রেপ্তার হলেও তার ভাই বাহার আলি সহ তার সাঙ্গোপাঙ্গরা এলাকায় আতঙ্ক তৈরিতে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। ডাকাত বাহার আলী তার ভাই ইয়ার আলী, রেজাউল করিমসহ এই গ্রুপটি দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা সহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
সাতক্ষীরা জেলা সহ কালিগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ ঘের মালিক এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ডাকাত ইয়ার আলী, বাহার আলী, পিয়ার আলী গ্রুপদের মোটা অংকের চাঁদা না দিলে ঘের করা সম্ভব হয় না। তাদের হত্যার হুমকিতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিন বর্তমান এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছে।
২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কৃষ্ণনগর বাজারে প্রকাশ্যে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় সাবেক চেয়ারম্যান কে, এম মোশারফ হোসেনকে গুলিও কুপিয়ে হত্যা করে। উক্ত ঘটনায় শীর্ষ ডাকাত জলিল মেম্বার, ইয়ার আলী, বাহার আলী, ফজলু মেম্বার, রেজাউল সহ ১৯ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের হয়।
উক্ত মামলার ৬ দিন পর জলিল ডাকাতকে ঢাকা মানিকগঞ্জ থেকে ধরা পড়লে ক্ষুব্ধ জনগণ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে বাজারে পিটিয়ে কুপিয়ে জলিল ডাকাতকে হত্যা করে। এরপর থেকে ইয়ার আলী, বাহার আলী গংরা দীর্ঘদিন পলাতক থেকে ২০২৩ সালে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে যায়।
দীর্ঘ কারা ভোগ শেষে তৎকালীন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার তদবিরে জামিনে বেরিয়ে এসে তারা যশোরে শাহীন চাকলাদার গ্রুপের সঙ্গে অবস্থান করতে থাকে। গত ৫ আগস্ট এর সুযোগ বুঝে এলাকায় এসে একটি গ্রুপের ছত্রছায়ায় আবারও এলাকায় খুন-খারাবি সহ হত্যা ,চাঁদাবাজি, ডাকাতির আস্তানা গড়ে তুলেছিল।
তবে গত শুক্রবারের অভিযানে ইয়ার আলী ও তার সহযোগী গ্রেফতারে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও বাইরে থাকা ডাকাত সন্ত্রাসীদের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে কৃষ্ণনগর এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। আটকের ঘটনায় থানা একটি মামলা দায়ের হয়েছে।