খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামকে পুনরায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদে বসাতে ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য তদবির চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই এমপির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীও এ তদবিরে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার “খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)” ঘিরে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির পিডি পদ ফিরে পেতে মো. রেজাউল ইসলাম নানামুখী যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ঠিকাদারি কাজে কমিশন বাণিজ্য, আত্মীয়স্বজনের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং নলকূপ স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৬ সালে এক আদেশে তাঁর প্রকল্প পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব বাতিল করে।
সমালোচকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ঘরানার হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাবশালী মহল সুবিধা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন সমন্বয়ক ও স্থানীয় প্রতিনিধির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, খুলনা ওয়াসার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল করা হলে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।”
তবে এ বিষয়ে মো. রেজাউল ইসলাম কিংবা অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।