খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চড়া থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে ২০২৬) ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাসের শুরু থেকে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খামার থেকে গরু পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ঈদ-পরবর্তী সময়েও মাংসের চাহিদা কমেনি।
পেঁয়াজের বাজারেও দেখা গেছে অস্থিরতা। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি এবং পাইকারি বাজারে হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। স্থানভেদে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার। তিনি ডুমুরিয়া ও চুকনগরসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউএনও বলেন, কোনো ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করতে পারবে না। পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করতে হবে।
তিনি বাজারে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি বা মূল্য তালিকা প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে জরিমানা থেকে শুরু করে দোকান সিলগালা পর্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন।
মিজ সবিতা সরকার জানান, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের মতো পচনশীল পণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে স্থানীয় আড়তদারদের মজুত পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো বাজারে অসাধু উপায়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হলে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।