সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) এর স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ও সেবার পরিবেশ একটি সংঘবদ্ধ অসাধু চক্রের মাধ্যমে ন্যক্কারজনকভাবে বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।
“রনি” নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের কখনো সমন্বয়ক, কখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে।
বলা চলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) এখন সন্ত্রাসীদের আতুড়ঘর হিসেবে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মববাজি সৃষ্টি, চিকিৎসকদের প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনা ঘটানো, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ ইতোমধ্যেই সামনে এসেছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো: সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, “রনি” নামের এই ব্যক্তি তাদের কোনো সমন্বয়ক নন এবং তাদের দলের সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, তিনি এবং তার সহযোগীরা সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি হাসপাতাল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয় এটি মানুষের জীবনরক্ষার আশ্রয়স্থল, মানবিকতার প্রতীক। সেখানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। চিকিৎসকদের উপর হামলা কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি সরাসরি রোগী সেবা ব্যবস্থার ওপর আঘাত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন প্রশাসনের নিকট জোরালোভাবে কিছু দাবিসমূহ উত্থাপন করছে তারমধ্যে প্রথমত, রনি এবং তার সহযোগীদের অবিলম্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
ভবিষ্যতে রনি বা তার কোনো সহযোগীকে হাসপাতাল বা কলেজ এলাকায় মববাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত দেখা গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে চিকিৎসকদের উপর হামলা, হুমকি বা চাঁদাবাজির মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এবিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক সমন্বয়ক নাজমুল ইসলাম রনি বলেন, আমি মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরাবরই কথা বলে আসছি। এজন্য কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমার পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে।
আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। হাসপাতালের সেবামূলক ও মানবিক পরিবেশ ধ্বংসের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।