বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুতের প্রধান লাইন থেকে হুক লাগিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বোরো ধানের সেচ কাজে একাধিক মটর ব্যবহার করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালীগঞ্জ অফিসের ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন মটরসহ মিটার জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে।
জরিমানা না করা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মিটার, মটর আটকের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অবৈধ সংযোগকারী আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকার লোক জানান প্রতিবছর বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে বছরের পর বছর এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসলেও দেখার কেউ ছিলনা।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দেয়া গ্রামে রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে সরে জমিনে ঘটনাস্থল দেয়া গ্রামে গেলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকারী আব্দুর রহমানের কন্যা আফরোজা খাতুন,
হযরত আলী, ইয়াসিন সহ একাধিক ব্যক্তি জানান আব্দুর রহমানের দেড় বিঘা জমি চাষের জন্য কালিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে ১টি সেচ মিটারের সংযোগ নিয়ে বোরো চাষের পানির কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত আরও ৩ টা মটরের মাধ্যমে এলাকার প্রায় শত বিঘা জমিতে
বোরো চাষে পানি বিক্রি করে বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে আসছে। কথায় আছে চোরের দশ দিন এবং গৃহেস্তের একদিন। তেমনি বছরের পর বছর চুরি করেও ধরা পড়েনি। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি বছর বছরে লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
পরে বিষয়টি এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পেরে রবিবার রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে অভিযান চালানোর সময় আব্দুর রহমান পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে হুক লাগানো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ মিটার এবং ১ টি মোটর জব্দ করে।
ঐ সময় কোন জেল জরিমানা ছাড়াই বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালীগঞ্জের আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের নিকট এ প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মিটার, মটর জব্দের সত্যতা স্বীকার করলেও জেল জরিমানার বিষয়টি এখনো করা হয়নি বলে জানান।
তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় অবৈধ সংযোগকারী আব্দুর রহমানকে রক্ষা করার জন্য একটি মহলের দৌড়ঝাপের কারণে ব্যবস্থা নিতে পারছে না ডিজিএম। ওই সময় আব্দুর রহমান বাড়িতে না থাকায় তার কন্যা আফরোজা খাতুন জানান, জমি- জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাটা মালিক মতি হাজী ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে একের পর এক হয়রানি করে আসছে।
তবে এ প্রসঙ্গে আলহাজ্ব মতিউর রহমান জানান বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট বরং তারা যে জমিতে বসবাস করছে সেটা আমার নামে রেকর্ডীয় জমি।