সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভোগ দখলে থাকা জমি দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রমজাননগর গ্রামের সৌরেন্দ্র নাথ মন্ডলের স্ত্রী দিরি রানী আহত হয়ে শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এই ঘটনার মনোরঞ্জন মন্ডল বাদী হয়ে চার জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানার এজাহার দায়ের করেছে।
আসামিরা হলেন: মৃত বিরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে সুভাষ মন্ডল,সুভাষ মন্ডলের ছেলে পিজুষ কুমার মন্ডল,মনিন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে তপন মন্ডল,সুভাষ মন্ডলের স্ত্রী উমা রানী মন্ডল।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামীগন অতীব দুর্দান্ত, দুধর্ষ, দলেভারী, জমি আত্মসাৎকারী, গুন্ডা, লারিয়াল, আইন অমান্যকারী, শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী বাক্তি।
আমাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তির মধ্যে নিঃসত্ববান আসামীগন লোভের বসবতী হইয়া আমার সম্পত্তির মধ্যে তাদের জমি আছে মর্মে দাবী করে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের দখলচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন সময় পায়তারা করতে থাকে।
আমাদের পেশি শক্তি না থাকায় আসামীরা অন্যায় ভাবে নিছক গায়ের জোরে আমার সম্পত্তি জবর দখল করার জন্য শত্রুতা পোষন করতঃ মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানী করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া আসিছে।
মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল তারিখ সকাল অনুমান ৮.৩০ মিনিটে ঘটিকায় আসামীগনসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক হাতে ধারালো দা, লোহার রড, শাবল, ছোট বড় সাইজের লাঠি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-সন্ত্র সহকারে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে আমার বসত বাড়ীর মধ্যে অনধিকার প্রবেশ করে।
অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। আমি নিষেধ করলে ১নং আসামী হুকুম দিয়ে বলে ওকে ধর জীবনের তরে শেষ করে দে। সাথে সাথে ২ ও ৩নং আসামীরা সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা আমাকে লোহার রড, শাবল, জিআই পাইপ দ্বারা এলোপাতাড়ী মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক কালশিরা ফোলা জখম করে।
আমার মাতা গিরি রানী মন্ডল ঠেকানোর চেষ্টা করলে ১নং আসামীর হাতে থাকা ধারালো দা দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাতার মাথা লক্ষ্যে করে কোপ মারে। উক্ত কোপ লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে আমার মাতার বাম কানের লতিতে লেগে গুরুতর হাড়কাটা রক্তাক্ত জখম করে (যাহা ০৭টি সেলাই যুক্ত)।
আমার মাতার হত্যা নিশ্চিত করার জন্য ২নং আসামীর হাতে থাকা দা দ্বারা আমার মাতার মাথা লক্ষ্যে করে স্বজের আঘাত করে। উক্ত আঘাত লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে আমার মাতার ডান পায়ের হাটুর নিচে লেগে রক্তাক্ত কাটা জখম হয়।
আমি চিল্লাচিল্লি করতে থাকলে ৩নং আসামীর হাতে থাকা জিআই পাইপ দ্বারা আমার মাতার ডান পায়ের উরুতে সজোরে আঘাত করে থেতলানো রক্তজমাটবাধা জখম করে।
৪নং আসামীর হাতে থাকা জিআই পাইপ দ্বারা আমার মাতার কোমরের ডানন পাশে সজোরে আঘাত করে থেতলানো রক্তজমাটবাধা জখম করে। ২নং আসামী আমার মাতার মাথা লক্ষ্যে করে ইট ছুড়ে মারে।
উক্ত ইট লক্ষ্যে ভ্রষ্ট হয়ে আমার মাতার বুকে লেগে মারাত্মক বেদনাদয়ক জখম হয়। আমার ও আমার মাতার ডাক চিৎকারে আমার স্ত্রী সুরমা মন্ডল (২৭) ঠেকানোর জন্য ছুটে আসলে ২নং আসামী অসৎ উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রীর পরিহিত সেলোওয়ার কামিজ টানা হেচড়া করে বে-আক্র করতঃ শ্লীলতাহানী ঘটায়।
এমন সময় আমার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে তারা ঘটনাস্থল থেকে আসামির পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় আমার পরিবারের সকল সদস্যদের খুন জখম সহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দিয়ে বলে যে,
এ ব্যাপারে কোথাও কোন মামলা মোকদ্দমা করিলে তোদের ও তোদের পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে হাত পা ভেঙ্গে দেবো, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করিবো, ক্ষয়-ক্ষতি করিবো ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে চলে যায়।
এলাকাবাসী আমার মাতাকে মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার পূর্বক শ্যামনগর উপজেলা কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে এবং আমি ও আমার স্ত্রী প্রাথমকি চিকিৎসা গ্রহন করি।
এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, আমি এজাহার পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।