শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
Breaking News:
ডুমুরিয়ায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন: যুবসমাজের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সাতক্ষীরায় “আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের” ২৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান শ্যামনগরে দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় জমিতে জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ “সামেক হাসপাতাল” সন্ত্রাসীদের আতুড়ঘর: ভুয়া সমন্বয়ক ‘রনি’র দাপটে চিকিৎসা সেবা জিম্মি শ্যামনগরে অবৈধভাবে নদীর চরের গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন সাতক্ষীরার-শ্যামনগরে “ভিক্ষুক পু্র্নবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান” কর্মসূচির উদ্বোধন সাতক্ষীরায় মহা আড়ম্বরে একুশে টিভি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত শ্যামনগরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য সহ আটক- ১ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ১২,শ লিটার ডিজেল জব্দ র‍্যাবের অভিযানে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন গ্রেপ্তার: অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে সুন্দরবনের “পুঁটনির দ্বীপ”

এম কামরুজ্জামানঃ / ১৪৭ Time View
Update : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

পুঁটনির দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা এক নয়নাভিরাম দ্বীপ, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাণী বৈচিত্র্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

পুঁটনির দ্বীপ বঙ্গবন্ধু দ্বীপ নামেও বেশ পরিচিত। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে অবস্থিত এই দ্বীপটির পশ্চিমে মান্দারবাড়িয়া সৈকত, পূর্বে হিরণ পয়েন্ট এবং দক্ষিণ-পূর্বে দুবলার চর দ্বারা বেষ্টিত। দ্বীপটির দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার।

আয়তন ১০ কর্গকিলোমিটার।এটি মূলত সুন্দরবনের দক্ষিণাংশের কাছাকাছি হওয়ায় এর জীব বৈচিত্র্যে সুন্দরবনের প্রভাব রয়েছে। ১৯৭২ সালে মালেক ফরাজী নামের এক জেলে প্রথম এই দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। সে সময় এটি ছিল মাত্র ২ একর আয়তনের ডুবোচর।

সমুদ্র থেকে পলি জমার কারণে এই চরটির আকার ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। – ২০০৪ সালের দিকে এটি স্থায়ী ভূমির রূপ লাভ করে এবং বর্তমানে এটি ১০ বর্গকিলোমিটার আকারের একটি দ্বীপ। দ্বীপের একাংশে রয়েছে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, যেখানে বানর, হরিণ, বন্য শুকোরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখা যায়।

অন্যদিকে দ্বীপের অন্য অংশজুড়ে রয়েছে দিগন্তজোড়া সৈকত, যা বালুকাবেলা ও লাল – কাকড়ায় ভরপুর। দ্বীপটি হরিণের অভয়ারণ্য হিসেবে বিখ্যাত। চারপাশে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি এবং নির্জন প্রাকৃতিক পরিবেশ এটিকে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

লাল কাঁকড়া এবং সুন্দরবনের জীবনধারা কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে এই দ্বীপে।সুন্দরবন ট্যুর এজেন্সির কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের পাশে হওয়ায় এই দ্বীপটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। সেখানকার নির্জন পরিবেশ ও সূর্যাস্ত দর্শনার্থীদের মনোমুগ্ধ করে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মাছ ধরার কার্যক্রমেও অংশ নেওয়া যায়। – পর্যটকরা পুটনির দ্বীপে আসলে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে ট্রেকিং করে বনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিতে পারবে। পুটনির দ্বীপে পূর্ণিমার রাতে জোছনারসাথে কাটানো রাত পর্যটকদের স্বর্গ সুখের অনুভূতি দেবে।

এন আর ট্যুরিজমের মালিক ও সিনিয়র সাংবাদিক গাজী সালাউদ্দীন বাপ্পী বলেন, পুটনির দ্বীপ আগে ‘বিবির মেদে’ নামে পরিচিত ছিল। পুটনির দ্বীপ আর সুন্দরবনের মাঝখানে একটা খাল আছে। ভাটার সময় খালে পানি কমে যায়। তখন ঐ খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। অনেক আগে ঐ খালে ডাকাত আর জেলেদের নৌকা রাখতো।

এই দ্বীপে আগে শুঁটকি পল্লী ছিলো, সরকার এখন এটা নিষিদ্ধ করেছে। এক কথায় বলতে গেলে এটি মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান। তবে সম্প্রতি এখানে একাধিক বাঘের আনাগোনা নজরে পড়েছে বনজিবীদের। আর তাই পর্যটকদের জন্য অবাধে ঘোরাফেরা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ এখন।

এরসাথে পর্যটকদের জন্য বড়ো লঞ্চ থেকে ওঠানামা এখানে অন্যতম সমস্যা। স্থায়ী মানসম্মত ঘাট না থাকায় ভাটার সময় কিনার থেকে অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে লঞ্চ নোঙর করে। সেখান থেকে ছোট নৌকায় করে দ্বীপে আনা হয় পর্যটকদের।

তবে সাগর উত্তাল থাকলে ছোট নৌকায় উঠতে নারাজ থাকেন অনেক পর্যটক। সেক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষকে। এই সমস্যায় অনেক পর্যটক এখানে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীতে যে যেসকল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের কারও বড়ো লঞ্চের ব্যবস্থা নেই।

সাগরের মোহনায় মালঞ্চ নদী হওয়ায় খারাপ আবহাওয়ায় ছোট লঞ্চ নোঙর করে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়, সেসময় বন্ধ রাখতে হয় পর্যটক ট্যুর।পুটনির দ্বীপে যাওয়া এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জের, তবে এটি ভ্রমণ প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ অথবা নীলডুমুর থেকে ট্রলার, স্পিডবোর্ড বা লঞ্চ যোগে পুটনির দ্বীপে যাওয়া যায়।পুটনির দ্বীপ বাংলাদেশ সরকারের পর্যটন খাতে একটি নতুন সংযোজন।

পর্যটকদের জন্য আরও সুযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। এতে স্থানীয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
add
Theme Created By ThemesDealer.Com