মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
Breaking News:
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র সহ আটক -১ শ্যামনগরে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা সাতক্ষীরা’র কালিগঞ্জে বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ায় সুদের ব্যবসায়ীকে লীগ্যাল নোটিশ সাতক্ষীরা, কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধে ধস সাতক্ষীরা, শ্যামনগরে জমির দলিল ও চেক ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ বিষ্ণুপুরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন খুলনা- ডুমুরিয়ায় সবজির কেজি ৭০ টাকা: কমছে মুরগির দাম শ্যামনগরে যুবদল নেতা কর্তৃক তেল সরবরাহ কাজে বাঁধা প্রদান ও হুমকির প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষক মুস্তাফিজ কর্তৃক ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ কালীগঞ্জে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জমি দখল চেষ্টা: মারপিটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষক মুস্তাফিজ কর্তৃক ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

হাফিজুর রহমানঃ / ২১ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘুষ গ্রহণের একাধিক ভিডিও ফুটেজ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ্যে কয়েক জন ব্যক্তির নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ করছে।

ঘুষ গ্রহণের একাধিক ভিডিও নিয়ে উপজেলা জুড়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ অফিসের দাপ্তরিক টেবিলে বসেই দু,জন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নিকট থেকে প্রকল্পের বিল বানানোর জন্য গুনে গুনে ঘুষের টাকা নিচ্ছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভিডিও গুলো হাতে আসার পর বিষয়টি নিয়ে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয়েই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলেন চাকুরী অনেক হয়েছে এ পর্যন্ত আমার কেউ কিছু করতে পারেনি।

আমি একা না, উপজেলা প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ইএনও পর্যন্ত সবাই খায় লিখে কোন লাভ হবে না। ভিডিও গুলোতে দেখা যায় চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাইদুর রহমান এবং কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুজ্জামানের নিকট থেকে প্রকল্প কাজের বিল তৈরির জন্য আগাম ১০টি ১০০০ টাকার নোট যাহা মোট ১০ হাজার টাকা ঘুষ গুনে দিতে দেখা গেছে।

এভাবে ইউপি সচিব সাইদুরের নিকট থেকেও ঘুষের টাকা নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নিকট থেকেও এই ভাবে ঘুষের টাকা নিতে দেখা গেছে। সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দ্রুত এই হিসাব রক্ষকের চাকরি থেকে অপসারণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে সাতক্ষীরা সদর থানার লাবসা গ্রামের আবুল কালামের পুত্র মুস্তাফিজুর রহমান ২০০৫ সালে প্রকল্পের মাধ্যমে চাকরিতে যোগদান করেন।

পরে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের মামলার রায়ে চাকুরি স্থায়ীকরণ থেকে চাকরি করে আসছে। ঘুষখোর মোস্তাফিজ চাকরি করার সুবাদে সাতক্ষীরার লাবসা গ্রামে গড়ে তুলেছে আলিশান দ্বিতল ভবন সহ নামে বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদের পাহাড়।

চাকরি করা কালীন যে সমস্ত জেলা, উপজেলাতে বদলি হয়ে চাকুরী করেছে সেখানে ঘুষ, দুর্নীতি ,চাঁদাবাজির কারণে বারবার নিজেকে বদলি হতে হয়েছে। তালা উপজেলাতে থাকা কালীন উপজেলা প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে ঘুষ নেওয়ায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ঘুষখোর মোস্তাফিজ হিসাবে সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়েছে।

সেখান থেকে তাকে খুলনা জেলার রুপসা উপজেলায় বদলি করা হয়। সেখান থেকে আবারো ঢাকা এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে মোটা অংকের তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যোগদান করেন। ৫/৭ দিনের মধ্যে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় তাকে।

উপায়ান্তর না পেয়ে আবারো তদবির বাণিজ্যে
২০২৫ সালের মে- মাসে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসে যোগদান করা নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। তার বদলির খবরে কালিগঞ্জ এলজিডি অফিসের প্রকৌশলী, সহকারি প্রকৌশলী সহ অফিসের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গণস্বাক্ষর করে দুর্নীতিবাজ মোস্তাফিজের বদলি স্থগিত চেয়ে আবেদন করে।

উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৫/৫/২৫ ইং তারিখে কালীগঞ্জ উপজেলা (এলজিইডির) প্রকৌশলী জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ৪৬.০২ .৮৭৪৭.০০০. ০১.০০১.২৫.৫৭৭ নং স্মারকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (প্রশাসন) বরাবর আবেদন করা হয়।

বিষয়টিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আবারো মোটা অংকের ঘুষ, তদবির বাণিজ্যে কালীগঞ্জে যোগদান করে বলে ভুক্তভোগীরা এ প্রতিনিধিকে জানান। নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদারের একাধিক কাজের বিল বাকি থাকায় এই প্রতিনিধিকে জানান নতুন কাজের চুক্তি,

কার্যাদেশ ও অন্যান্য কাগজ পত্র প্রস্তুত করতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয় হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে। তবে বরাদ্দের টাকা বেশি হলে সেক্ষেত্রে বেড়ে যায় ঘুষের অংক। ঠিকাদাররা ঘুষের টাকা দিলে দ্রুত সম্পন্ন হয় তার কাজ।

কোন প্রকল্প বা কাজের বিল নিতে গেলে প্রথমে কথিত বড়বাবু খ্যাত হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের চাহিদা না মিটানো পর্যন্ত তাকে অফিসের বারান্দায় মাসের পর মাস হয়রানি হতে হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এছাড়াও উপজেলার কোন ব্যক্তি নতুন বাড়ি করার জন্য তার নিকট প্লান তৈরি করতে গেলে তাকে বাধ্যতামূলক ২০ হাজার টাকা আগে দিতে হবে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড, উপজেলা প্রকৌশলী এবং সহকারী প্রকৌশলীদের ঘুষ দেওয়ার নাম করে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক ঘটনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঘটনার সত্যতা যাচায়ের জন্য পরিচয় গোপন রেখে এ প্রতিনিধি বাড়ির প্লানের জন্য কথা বললে সে ১% স্কয়ার ফুটের টাকা ছাড়াও ইউএনও, এসিল্যান্ড, প্রকৌশলীর দিতে হবে বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান তার বিরুদ্ধে এর আগেও অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।

  • তবে সাম্প্রতিক বিষয় গুলো আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জেনে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
add
Theme Created By ThemesDealer.Com