সাতক্ষীরার রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। শৈশব থেকেই তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাগিদ থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন এবং পরের বছর ডাকসুর বিজ্ঞান মিলনায়তন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়েও তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও তাকে আলোচনায় এনে দেয়। পরবর্তীতে গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসনের পতন হলে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে রিজভী-ইলিয়াস কমিটির প্রথম সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্ররাজনীতি শেষে নিজ জেলা সাতক্ষীরায় ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন।
১৯৯৬ সালে তরুণ বয়সেই সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে স্বল্প মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। পরে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
তার উদ্যোগে সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। দলের কঠিন সময়ে ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং ২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু হামলা-মামলার মুখোমুখি হলেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে দাবি করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ২০০২ সালে কলারোয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার ১২ বছর পর দায়ের হওয়া একটি মামলায় হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ বিএনপির ৫০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
পরে ওই মামলায় নিম্ন আদালত তাকে সর্বোচ্চ ৭০ বছরের সাজা প্রদান করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের (২৭ আগষ্ট) মঙ্গলবার আপিল করলে ঢাকায় উচ্চ আদালতের ১১ নম্বর বেঞ্চ থেকে তিনি ও অন্য নেতাকর্মীরা জামিন লাভ করেন। উল্লেখ্য, প্রায় ৩ বছর ৪ মাস কারাবন্দি থাকার পর জামিন লাভ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও তিনি নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী ও ভোটারদের পাশে রয়েছেন।
নিয়মিত এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সাহস ও প্রেরণা জোগাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন তিনি।