ডুমুরিয়া উপজেলায় সরকারি চাকরির পাশাপাশি লাভ বার্ড পালন করে বাড়তি আয় ও সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা করুণা বিশ্বাস। অল্প জায়গায়, কম খরচে ও সহজ ব্যবস্থাপনায় বিদেশি এই পাখি পালন করে তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে আজহারুল ইসলাম, মাহতাব হোসেন ও তার সঙ্গীরা মাছের ঘের পরিদর্শনে গিয়ে সুনিল মাস্টারের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে আপ্যায়নের পর করুণা বিশ্বাসের বাড়িতে থাকা রঙিন ও কিচিরমিচির করা লাভ বার্ড দেখে মুগ্ধ হন তারা।
এরপর করুণা বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত এই পাখি পালন করে ভালো আয় করছেন। করুণা বিশ্বাস জানান, আফ্রিকার আবাসস্থল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে লাভ বার্ড সহজলভ্য।
দিন দিন এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে। অল্প জায়গায় খাঁচায় এদের পালন করা যায় এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ১৮×১৮×২৪ ইঞ্চি মাপের খাঁচা লাভ বার্ড পালনের জন্য উপযোগী।
খাঁচার সঙ্গে ব্রিডিং বক্স সংযুক্ত করলে বংশবিস্তার সহজ হয়। শুরুতে এক জোড়া দিয়ে শুরু করলে ঝুঁকি কম থাকে এবং একবার বাচ্চা পেলেই প্রাথমিক বিনিয়োগ উঠে আসে।
খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, লাভ বার্ডের প্রধান খাবার সিড মিক্স। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও ঘরে তৈরি এগফুড দিলে পাখি সুস্থ থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানির পরিবর্তন করলে রোগের ঝুঁকি কমে যায়।
লাভ বার্ড পালনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো মেইল ও ফিমেইল শনাক্ত করা। নতুনদের জন্য এটি কঠিন হলেও অভিজ্ঞদের সহায়তায় বিষয়টি সহজ হয়। দেশে বর্তমানে লুটিনো, ফিসার, রোজি ফেসড, পিচ ফেসডসহ বিভিন্ন জাতের লাভ বার্ড পাওয়া যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবির বলেন, “লাভ বার্ড কিনতে হলে ভালো ব্রিডারের কাছ থেকে নেওয়া উচিত। পাখির স্বাস্থ্য, আচরণ ও বয়স যাচাই করা জরুরি। না হলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
বর্তমানে ফেসবুক গ্রুপ ও স্থানীয় বাজারের মাধ্যমে লাভ বার্ড কেনাবেচা করা হচ্ছে। সাধারণ জাতের বাচ্চার দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু হলেও উন্নত জাতের এক জোড়ার দাম লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
করুণা বিশ্বাসের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে লাভ বার্ড পালন করেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তার সফলতা এখন ডুমুরিয়া অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।