সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে গাছে গাছে আমের মুকুলে এখন মৌমাছিদের গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মত কাছে টানছে তাদের। ছুটেছে আমের মুকুলে ছড়াচ্ছে সুবাসিত ঘ্রাণ।
কবির ভাষায ফাগুনে বিকাশিত কাঞ্চন, ফুল ডালে ডালে পুণজিৎ আমের মুকুল। বনে বনে ফুল ফুটেছে দোলে নতুন পাতা। এজন্য বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ১২ টি ইউনিয়নের গ্রামের আম গাছগুলোতে এর মধ্যে মুকুলে ভরে গেছে। নানা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি।
শীত মুগ্ধতার মধ্যেই ছড়াচ্ছে সোনালি মুকুল। বছর ঘুরে আবারো তাই মুকুলে বছর ঘুরে আবারো মুকূলে ভরে উঠেছে আম প্রেমীদের মন। এবার সময়ের আগেই মুকুলে ভরে গেছে কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে, ভরে গেছে গ্রাম গুলোর আমবাগান গুলো। এবার কুয়াশা বিহীন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌসুমী স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষীরা।
বাগানের সারি সারি গাছে ধরেছে আমের মুকুল। সুরভিত মুকুলের গন্ধে পাল্টিয়ে দিয়েছে অঞ্চলের বাতাস। তাই ভাগ্য পরিবর্তনে দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে আম চাষীদের স্বপ্ন। আশার আলো জাগিয়েছেন আম বাগান গুলোতে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ঘুরে বিষ্ণুপুর গ্রামে গেলে আম চাষী, কৃষক পীযূষ কান্তি রায় বলেন তার ৩ বিঘা জমিতে দেড় শতাধিক গাছ রয়েছে।
এবার মাঘ মাসের প্রথম থেকেই আমগাছ ভরে মুকুল ধরেছে। কুয়াশা না থাকায় এবার মুকুল ঝরে না যাওয়ায় আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। বালিয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর গ্রামের তপন সরকার বলেন, গাছে যে পরিমাণ মুকুল ধরেছে তাতে মৌমাছি বসায় তাড়াতাড়ি গুটি ধরছে।
গুটি যেন ঝরে না যায় সেজন্য গাছের গোড়ায় জল দেওয়ার পাশাপাশি স্প্রে করে হরমোন ও ডিডিটি দেওয়া হচ্ছে। তার বাগানে হিমসাগর, লেংড়া, গোপালভোগ, আমরুপালি আম রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গতবারের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি হবে বলে আশা করছি।
মৌতলা গ্রামের আম চাষী মুজাহিদ, আজহার, শংকর দে সহ একাধিক কৃষক বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়া ও শীত কম পড়ায় এবার আমের ফলন বেশি হবে। তাছাড়া বিদেশে আম পাঠানোর নামে তারা যে প্রস্তুতি নেন বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনা।
তার জন্য অন্যতম কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে। ফলে কৃষি বিভাগের সুপারিশক্রমে অধিক খরচ করে বিদেশে আম পাঠাতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আম চাষিরা। নলতার বাগবাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সুবাহান বলেন তাদের ৫ বিঘা জমিতে ৩ শতাধিক আম গাছ রয়েছে।
প্রতিটি গাছে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আম বাগানের পরিচর্যা করা হয়েছে এখন আশায় বসে আছি। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বর্ষা বা ঝড় না হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম জানান এবার উপজেলা জুড়ে শীতে কুয়াশা না পড়ায় যে পরিমাণ আমের মুকুল এসেছে সে পরিমাণ ফলন হলে কৃষকরা এবার বাজিমাত করে দিতে পারে।
তবে আমরাও কৃষকদের পাশে থেকে সব সময় পরিচর্যা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ফলন বেশি হবে বলে আশা করছি।